কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০ এ ১২:৫০ AM
কন্টেন্ট: পাতা
মারমা শব্দ 'থাইন চৈ' বা 'বিশ্রামের স্থান' থেকে থানচি নামটির উৎপত্তি। ধারণা করা হয় ১৯৫০ সালে বা তার পূর্বে নৌপথে চলাচল কালে যাত্রীগণ বিশ্রামের জন্য এ স্থানে থামতেন বলে থাইন চৈ নামে স্থানটি পরিচিত ছিল পরে তা থানচি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। উপজেলার উত্তরে রুমা ও বিলাইছড়ি উপজেলা, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য এবং আকাইব জেলা, পূর্বে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলা, পশ্চিমে লামা ও আলীকদম উপজেলা অবস্থিত। এই উপজেলায় ১১টি নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর বাস। থানচি উপজেলা বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত। বোমাং সার্কেল বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি নিয়মতান্ত্রিক সার্কেলের অন্যতম। সম্পূর্ণ বান্দরবান জেলা এই সার্কেলের আওতাভুক্ত। বোমাং রাজপরিবারের সদস্যরা মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত এবং তারা রাগ্রাইসা নামে পরিচিত। প্রায় ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকার বান্দরবানের ৯৫টি মৌজা (সকল মৌজা), রাঙামাটির রাজস্থলি ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা (মোট ১০৯টি) নিয়ে গঠিত বোমাং সার্কেল। চিটাগাং হিল ট্রাক্টস রেগুলেসন ১৯০০ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধিমালা, ১৯০০ হল বোমাং সার্কেলের আইনি ভিত্তি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা সমতল এলাকার ভূমি ব্যবস্থাপনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এই অঞ্চলের ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অত্যধিক। পার্বত্য চটগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক ব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট। যথা: ১. সার্কেল প্রশাসন ২. মৌজা প্রশাসন ও ৩. গ্রাম প্রশাসন। এই প্রথাগত প্রতিষ্ঠানগুলো জমি, ও বন ব্যবস্থাপনা, জুম ও জমির রাজস্ব,, জেলার আইন শৃঙ্খলাসহ নানা বিষয়ে জেলা প্রশাসককে পরামর্শ প্রদান, সামাজিক বিচার, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে ভূমিকা রাখা ইত্যাদি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে থাকে।
বোমাং সার্কেল একজন বংশানুক্রমিক প্রধান বা সার্কেল চীফ বা গোত্রপতি দ্বারা শাসিত যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণ কর্তৃক "রাজা" নামে আখ্যায়িত হন। বোমাং রাজা মৌজার হেডম্যানদের এবং কারবারি বা গ্রাম প্রধানদের নিয়োগ করেন এবং তারা ঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে কি না তার তদারকি করেন। তিনিই সর্বেসর্বা অর্থাৎ যেকোনো সময় কোনোরকম অনিয়ম দেখলে কারবারিদের অপসারণ (পদত্যাগ) করতে পারেন। বোমাং সার্কেলে বর্তমানে ১০৯টি মৌজা রয়েছে। বর্তমান বোমাং সার্কেল চীফ হলেন জনাব উ চ প্রু চৌধুরী যিনি পেশায় একজন কৃষি প্রকৌশলী। বোমাং রাজা প্রতিবছর তিনদিন ব্যাপি রাজপুণ্যাহ্য উৎসবে নেতৃত্ব দান করেন, যেটা ১৮৭৫ সাল থেকে হয়ে আসছে। তিনি পদাধিকার বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদ এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য।
থানচি উপজেলার অন্তর্গত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ সাকা হাফং, সর্ববৃহৎ নাফাখুম জলপ্রপাত, তিন্দুর পাথর নদী, ডিম পাহাড়, তাজিং ডং, বড় পাথর বা রাজা পাথর ইত্যাদি স্থানসমূহ পর্যটন আকর্ষণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।